পোস্টের কোড : 2071 165 পরিদর্শন

আয়াতুল্লাহ আল-উজমা খামেনেয়ী’র জুমআর খোতবার বাংলা অনুবাদ

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): দীর্ঘ ৮ বছর পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হজরত আয়াতুল্লাহ আল-উজমা খামেনেয়ী’র ইমামতিতে অনুষ্ঠিত হল তেহরানের জুমআর নামাজ।

তেহরান শহর ছাড়াও তেহরানের আশেপাশের শহরগুলো থেকে বিপুল সংখ্যক মুসুল্লি সকাল থেকে জুমআর নামাজের স্থান ‘মুসাল্লা’তে উপস্থিত হতে শুরু করে। তেহরানে অনুষ্ঠিত গতকালের জুমআর নামাযে ৪০ লাখের কাছাকাছি মুসল্লি একত্রে জুমআর নামায আদায় করেছেন।

হজরত আয়াতুল্লাহ আল-উজমা সৈয়দ আলী খামেনেয়ী জুমআর প্রথম খোতবায় সকলকে তাকওয়ার প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন: মহান আল্লাহর সাহায্য ও তৌফিক তাকওয়ার মাঝেই নিহিত। এরপর তিনি সূরা ইব্রাহিমের ৫নং আয়াত তেলাওয়াত করে ‘আইয়ামুল্লাহ’ বা আল্লাহর দিনসমূহকে সংরক্ষণ এবং মহান আল্লাহ প্রদত্ত নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করার কথা উল্লেখ করে খোতবা শুরু করেন।

‘আল্লাহর দিনসমূহ’ জনগণকে স্মরণ করিয়ে দেয়ার বিষয়ে হজরত মুসা (আ.) এর প্রতি মহান আল্লাহর নির্দেশের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন: [এ আয়াতে] সাব্বার ((صبّار)) এর অর্থ হল ধৈর্যশীল ও অটল জনগোষ্ঠী। তারা সামান্য ধাক্কায় ময়দান খালি করে না। আর শাকুর ((شکور)) অর্থ হচ্ছে ঐ ব্যক্তিরা যারা মহান আল্লাহর নেয়মতসমূহ চিহ্নিত এবং নেয়ামতের স্পষ্ট ও লুক্কায়িত বিভিন্ন দিক অবলোকনের পর সেটার জন্য কৃতজ্ঞ থাকে। আর মহান আল্লাহ প্রদত্ত এ নেয়ামতের বিপরীতে দায়িত্ববোধ রাখে।

তিনি পবিত্র কুরআনের এ আয়াত মক্কায় -তথা কুফরি মুভমেন্টের বিরুদ্ধে মুসলমানদের সংগ্রাম ও দৃঢ়তার সময়- অবতীর্ণ হওয়ার বিষয়ে বলেন: ঐ কঠিন মুহূর্তে এ আয়াত মুসলমানদেরকে এ সুসংবাদ দান করে যে, মহান আল্লাহ তোমাদেরকে আইয়ামুল্লাহ দান করবেন। আর প্রদত্ত নেয়ামতের কৃতজ্ঞতা স্বীকার করতে যেয়ে তোমরা যেসব আমল করবে সেগুলোর ফলস্বরূপ অধিক বিজয় তোমাদের জন্য অপেক্ষা করবে।

তিনি বলেন: ইয়াওমুল্লাহ অর্থ হচ্ছে, বিভিন্ন ঘটনাবলিতে মহান আল্লাহর শক্তি ও ক্ষমতা প্রকাশিত হওয়ার দিন। অতএব, কুদস ফোর্সের কমান্ডারের আত্মত্যাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে যখন ইরানে কোটি মানুষ এবং ইরাকসহ অন্যান্য দেশে লক্ষ লক্ষ মানুষ রাস্তায় নেমে এসে এটাকে বিশ্বের সর্ববৃহৎ [অন্তিম] বিদায় অনুষ্ঠানে পরিণত করে তোলে –এটাই হচ্ছে আইয়ামুল্লাহ’র অন্যতম নমুনা। কেননা একমাত্র মহান আল্লাহর অদৃশ্য শক্তি ব্যতীত কোন কিছুই এ বৃহৎ ঘটনার জন্ম দিতে পারে না।

মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের বিপ্লবী রক্ষী বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার দিনকে আল্লাহর দিনসমূহের একটি বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন: বিশ্বের বলদর্পী ও দাম্ভিক শক্তির মুখে কোন জাতির এমন শক্তি ও মনোবল নিয়ে সজোরে চপেটাঘাত করা প্রকৃত অর্থে মহান আল্লাহর শক্তির বহিঃপ্রকাশ। অতএব, এদিনটিও আইয়ামুল্লাহ’র অন্তর্ভুক্ত।

হজরত আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী আইয়ামুল্লাহ’কে ইতিহাস সৃষ্টিকারী স্মরণীয় দিন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন: ইরানি সমাজ; ‘সাব্বার’ এবং ‘শাকুর’ গুণে গুণান্বিত। বহুবছর ধরে তারা দৃষ্টান্তমূলক প্রতিরোধের মাধ্যমে সর্বদা মহান আল্লাহর অনুগ্রহের প্রতি কৃতজ্ঞ।

জেনারেল সোলেইমানি’র জানাজার অনুষ্ঠানের বস্তুগত ও আধ্যাত্মিক বিভিন্ন দিকের পরিচিতি অর্জনের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে এ প্রশ্ন উত্থাপন করেন যে, ইসলামি বিপ্লবের বিজয়ের ৪১ বছর পর মহান আল্লাহর শক্তি ছাড়া কোন শক্তি এ ধরনের দৃষ্টান্তহীন ঘটনার জন্ম দিতে পারে এবং এত বিপুল সংখ্যক প্রেমিক জনতাকে ময়দানে আনতে পারে?

বৃহৎ এ জানাযার অনুষ্ঠান ও ইরানের জনগণের এ ঐশী মুভমেন্ট জনগণের প্রশংসনীয় বাতেন ও আধ্যাত্মিকতা’র বহিঃপ্রকাশ। আর এ বাস্তবতার প্রমাণ যে, মহান আল্লাহর ইচ্ছা ইরানি জাতির বিজয়ের সাথেই রয়েছে।

তিনি বলেন: শহীদ কাসেম সোলেইমানি’র ঐতিহাসিক জানাযার ঘটনায়, জায়নবাদী সংবাদ মাধ্যমের মহাচক্র ও সন্ত্রাসী মার্কিন কর্মকর্তারা, সকলের প্রিয় মহান সেনাপতি কাসেম সোলেইমানিকে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে অভিযুক্ত করার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়েছে। কিন্তু মহান আল্লাহ্ দৃশ্যপটকে এমনভাবে পাল্টে দিয়েছেন যে, শুধুমাত্র ইরানে নয় বরং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জনগণ তার আত্মার প্রতি দরুদ পাঠিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নবাদী ইসরাইলের পতাকায় আগুন দিয়েছে।

তার সংযোজন: শুধুমাত্র মহান এ সকল মুজাহিদের জানাযার ঘটনা নয় বরং তাদের শাহাদাতও মহান আল্লাহর ক্ষমতার নিদর্শন স্বরূপ। কেননা সার্দার (জেনারেল) সোলেইমানিকে হত্যা -তথা মধ্যপ্রাচ্যে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী লড়াইয়ে সবচেয়ে শক্তিশালী ও বিখ্যাত কমান্ডারকে হত্যা- মূলতঃ নির্লজ্জ মার্কিন সরকারের অধিক অপমানের কারণ হয়েছে।

তিনি শহীদ কাসেম সোলেইমানি’র দুঃসাহসিক এক অভিযানের -যার ফলে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থায় থাকা শত্রুরা শেষমেষ পালাতে বাধ্য হয়েছিল- বর্ণনা দিয়ে সাহসী এ শহীদের হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে বলেন: মার্কিনীরা তার সাথে সরাসরি যুদ্ধে না যেয়ে, চোরের মত এবং কাপুরুষের মত এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। আর এ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড তাদের অধিক অপমানের কারণ হয়েছে।

এর আগে প্রতিরোধ আন্দোলনের নেতাদেরকে এ ধরনের গুপ্তহত্যা করতো জায়নবাদী ইসরাইল। মার্কিনীরা ইরাক ও আফগানিস্তানে এ ধরনের বহু হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, কিন্তু এবার স্বয়ং তাদের প্রেসিডেন্ট নিজ মুখেই স্বীকার করেছেন যে, ‘আমরা সন্ত্রাসী’। এরচেয়ে বড় অপমান ও নির্লজ্জতা আর কি হতে পারে।

তিনি আমেরিকার জবাবে ইরানের বিপ্লবী রক্ষী বাহিনীর মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার বিষয়ে বলেন: শক্তিশালী এ জবাব ছিল প্রভাব বিস্তারকারী একটি সামরিক আঘাত। কিন্তু এ হামলা ছিল সামরিক আঘাতের পাশাপাশি তাদের সম্মানের উপর আঘাত; যা তাদের দম্ভকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিয়েছে। আমেরিকা নিজেকে পরাশক্তি দাবি করে দম্ভ দেখায় আইআরজিসি'র ক্ষেপণাস্ত্র তাদের সেই দম্ভে আঘাত করেছে। এখন তারা বলছে আমাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করবে, কিন্তু এসবের মাধ্যমে তারা তাদের হারানো সম্মান ফিরে পাবে না।

আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী বলেন: যে কাজে একনিষ্ঠতা থাকবে মহান আল্লাহ্ তাতে বরকত প্রদান করবেন, সেটাকে বৃদ্ধি করবেন। আর এই বরকতের সুফল সবাই ভোগ করবে, যা হবে স্থায়ী। যেমনটি আইআরজিসি’র মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার মাঝে পরিলক্ষিত হয়েছে।

অশ্রুসজল নয়নে হাজ কাসেম ও তার সহযোদ্ধাদের জানাযায় কোটি জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং ইরানি জাতির বিপ্লবী চেতনা জাগ্রত হওয়া কাসেম সোলেইমানি ও তার সহযোদ্ধা শহীদদের [মহান প্রভুর প্রতি তাদের] একনিষ্ঠতার ফসল। হাজ কাসেম ও আবু মাহদি আল-মুহানদিসকে শুধু একজন ব্যক্তি হিসেবে দেখা উচিত নয় বরং তাদেরকে একটি পথ ও বিদ্যালয় হিসেবে মনে করতে হবে। সেপাহও (আইআরজিসি) একটি সংস্থা ও কিছু কার্যালয়ের সমন্বয় নয়, বরং সেপাহ হচ্ছে একটি মানবিক সংস্থা যার রয়েছে সুউচ্চ ও পরিত্রাণ দানকারী লক্ষ্য।

অবশ্য সকল সশস্ত্র বাহিনী, সেনাবাহিনী ও বাসিজ (স্বেচ্ছাসেবী)-এর মূল চিন্তাধারা ঐশী উদ্দেশ্যের উপর ভিত্তি করে। আর কুদস ফোর্স সীমান্তের উর্ধ্বে একটি বাহিনী; যেখানে প্রয়োজন গণমানুষের সাহায্যে, মজলুম ও অসহায়দের সম্মান রক্ষার্থে নিজের সমস্ত শক্তি নিয়ে উপস্থিত হয়। পাশাপাশি পবিত্র স্থানসমূহের রক্ষার্থে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে থাকে।

প্রিয় ভূমি ইরান থেকে যুদ্ধের ছায়া, হত্যাকাণ্ড ও ধ্বংসযজ্ঞকে দূর করা ছিল কুদস ফোর্সের অন্যতম কাজ। ইরানের নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ এক অংশ ঐ সকল মু’মিন যুবকদের প্রচেষ্টার ফসল যারা প্রিয় হাজ কাসেমের নেতৃত্বে তৎপর ছিল। বহুবছর ধরে এ জেহাদ ও আত্মত্যাগে হাজ কাসেম জড়িত ছিলেন। এই সাহসী যুবকেরা ফিলিস্তিনসহ অন্যান্য এলাকার জনগণের সাহায্যে এগিয়ে যায় পাশাপাশি তারা ইরানের জন্যও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। দায়েশ (আইএস) সৃষ্টি ও সন্ত্রাসী এ গোষ্ঠির সহযোগিতার মাধ্যমে আমেরিকার চূড়ান্ত উদ্দেশ্য হচ্ছে ইরান সীমান্ত ও ইরানের শহরগুলোতে হামলা করা ও এগুলোকে অনিরাপদ করে তোলা এবং ইরানি জনগণের মাঝে উদ্বেগ সৃষ্টি করা। আমাদের যুবকেরা নিজেদের জীবনকে হাতের মুঠোয় নিয়ে ইরাক ও সিরিয়াকে সাহায্য করার মাধ্যমে মূলতঃ এ ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করেছে।

হজরত আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী বলেন: মার্কিনীরা কখনই ইরানি জনগণের পাশে ছিল না। তারা স্পষ্ট মিথ্যা বলছে। আর যদি পাশে থেকেও থাকে তবে আস্তিনে লুকিয়ে রাখা বিষাক্ত খঞ্জর ইরানি জাতির বুকে বিধিয়ে দেয়ার জন্য রয়েছে। অবশ্য এ পর্যন্ত তারা পারেনি এবং ভবিষ্যতেও পারবে না। প্রতিশোধের যে বজ্র কণ্ঠের আওয়াজ সমগ্র ইরান থেকে উঠেছে, মূলতঃ তা ছিল মার্কিন ঘাঁটিকে লন্ডভণ্ড করে দেয়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর জ্বালানী [ও চালিকা শক্তি]।

আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী বিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন: এ ঘটনায় আমরা যতটুকু মর্মাহত হয়েছি শত্রুরা একই পরিমাণে খুশী হয়েছে। কারণ এর মাধ্যমে তারা বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী ও প্রশাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার বাহানা পেয়েছে। কিন্তু মহান আল্লাহর অসীম শক্তির বিপরীতে তাদের এ প্রতারণা প্রভাবহীন থাকবে। শহীদ সোলেইমানি ও মার্কিন ঘাঁটির উপর হামলার দিন কখনই মানুষের স্মৃতিপট থেকে মুছে যাবে না, বরং মহান আল্লাহর অনুগ্রহে দিনের পর দিন তা আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।

হজরত আয়াতুল্লাহ আল-উজমা খামেনেয়ী বলেন, এ দু'টি ঘটনাতেই বিভিন্ন শিক্ষণীয় দিক রয়েছে। এক সপ্তাহব্যাপী এসব বিশাল ঘটনাকে আড়াল করতেই তিন ইউরোপীয় দেশ ইরানের পরমাণু ইস্যুকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে। অবশ্য ইরানি কর্মকর্তারাও তাদের কঠিন জবাবও দিয়েছেন এবং জনগণও ভুলে যায়নি যে, ৮ বছরের চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধে তারা কিভাবে সাদ্দামের অপরাধযজ্ঞে সহযোগিতা করেছিল। আমি প্রথম থেকেই বলে এসেছি যে, পরমাণু চুক্তির পর ইউরোপীয়দের কথা আমি বিশ্বাস করি না। তারা কিছুই করে না, বাস্তবিক অর্থে ইউরোপীয় দেশগুলো হচ্ছে আমেরিকার সেবক। তারা এখন ইরানকে নতজানু করার স্বপ্ন দেখছে। কিন্তু ইউরোপতো দূরের কথা স্বয়ং তাদের প্রভু অর্থাৎ আমেরিকা এ কাজে সফল হতে পারেনি।

ইউরোপীয়রা ইরানের সঙ্গে যে সংলাপে বসে তাতেও থাকে প্রতারণা। ভদ্রলোকের বেশধারী যেসব ব্যক্তি আলোচনার টেবিলে বসেন তারাও আসলে বাগদাদ বিমান বন্দরে সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে জড়িত। তারা কেবল তাদের বেশভূষা পরিবর্তন করেছেন।

মহান আল্লাহর কৃপায় ইরান ও ইরানি জাতি অদূর ভবিষ্যতে এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছুবে যে শত্রুরা তাদেরকে হুমকি প্রদানের সাহসও করবে না।

ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা, তার দ্বিতীয় খুতবার একটা অংশে আরবি ভাষায় কিছু বার্তা দেন। শুরুতে তিনি জেনারেল কাসেম সোলেইমানি, আবু মাহদি আল-মুহানদিস ও তার সাথীদেরকে কাপুরুষোচিতভাবে হত্যার কথা তুলে ধরেন।

হজরত আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী বলেন, বস্তুবাদী ও সামাজিক মূল্যবোধ বিরোধী শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে বিজয়ের মূলমন্ত্র হল মধ্যপ্রাচ্যে ইসলামি জাতিসমূহের শক্তি [ও সামর্থের উপর নির্ভরতা]। পশ্চিমারা প্রযুক্তি, সমরাস্ত্র, মিথ্যা প্রচারণা ও প্রতারণমূলক নীতি অবলম্বনের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর উপর আধিপত্য ধরে রেখেছে। যখন গণজাগরণের কারণে তারা কোন দেশ ত্যাগে বাধ্য হয়েছে তখন তাদের সর্বাত্মক চেষ্টা ছিল সেখানে ষড়যন্ত্র, গোয়েন্দাবৃত্তির মাধ্যমে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আধিপত্য কায়েম রাখা। [আর তারাই] জায়নবাদ নামক মারাত্মক এক গ্রন্থিকে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোর জন্য মধ্যপ্রাচ্যের প্রাণকেন্দ্রের উপর স্থায়ী হুমকি হিসেবে দাঁড় করিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গোটা অঞ্চলের উজ্জ্বল ভবিষ্যত নির্ভর করছে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কবল থেকে মুক্তি এবং বিজাতীয় ইহুদিবাদীদের আধিপত্য থেকে ফিলিস্তিনের মুক্তির ওপর। এই অঞ্চলের মানুষের জাগ্রত হওয়ার মাধ্যমে এই লক্ষ্যে পৌঁছুতে হবে।

তিনি এই অঞ্চলের সকল মুসলমানের উদ্দেশে বলেন, মুসলমানদের মন ও বিবেককে জাগ্রত করতে হবে এবং আত্মবিশ্বাস বাড়াতে হবে। সবাই জেনে রাখুন সুচিন্তা, সুপরিকল্পনা, দৃঢ়তা এবং সাহসিকতা হচ্ছে মুক্তির একমাত্র পথ।

ইরানের শত্রুরা ও ইসলামের শত্রুরা তাদের অর্থনীতিকে আমাদের দেশ থেকে, সম্মানকে আমাদের জাতিসমূহের লাঞ্ছণার বিনিময়ে অর্জন করতে চায়। আর আমাদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টির মাধ্যমে নিজেদের আসনকে পোক্ত এবং আমাদেরকে ও আপনাদেরকে পরস্পরের হাতে ধ্বংস করে দিতে চায়।

আমেরিকা, ‘ফিলিস্তিনের অসহায় জনগণকে অপরাধী জায়নবাদী ইসরাইলের বিপরীতে’, ‘সিরিয়া ও লেবাননকে তাদের দোসর ও ভাড়াটেদের কর্তৃত্বে’ এবং ‘ইরাক ও এর তেল সম্পদকে পূর্ণরূপে নিজেদের করায়ত্তে’ নিতে চায়। আর এ অশুভ লক্ষ্যে পোঁছুতে তারা সব ধরনের অপরাধ করে চলেছে।

তারা ইরাকে দাঙ্গা-হাঙ্গামা, গৃহযুদ্ধ সৃষ্টি, ইরাককে খণ্ডে খণ্ডে বিভক্ত এবং মু’মিন, মুজাহিদ ও দেশপ্রেমী মানুষদের দ্বারা গঠিত বাহিনীকে নিষ্ক্রিয় করে দিতে চায়।

মার্কিন বাহিনীর ইরাক ত্যাগের ব্যাপারে ইরাকি পার্লামেন্টের সিদ্ধান্তের বিপরীতে মার্কিনীদের নির্লজ্জ ও ধৃষ্টতাপূর্ণ মন্তব্য তাদের ফেতনার অন্যতম দৃষ্টান্ত, এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন: যারা নিজেদেরকে গণতন্ত্রের ধারক-বাহক বলে দেখানোর চেষ্টা করে তারাই লজ্জার মাথা খেয়ে বলছে, ‘আমরা ইরাকে থাকার জন্য এসেছি এবং ইরাক ত্যাগ করবো না’।

প্রসঙ্গত, গতকাল জুমআর নামাযের পর সারা ইরান জুড়ে সাম্রাজ্যবাদী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে ইরানের সকল শহরের জনগণ। বিক্ষোভ শেষে মার্কিন ও ইসরাইলি পতাকায় অগ্নিসংযোগ করেছে, বিক্ষুব্ধ জনতা।

0
সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে শেয়ার করুন:
फॉलो अस
नवीनतम