পোস্টের কোড : 1076 49 পরিদর্শন

কেউ কেউ জানি, কেউ কেউ জানি না

কেউ কেউ জানি, কেউ কেউ জানি না

 শিশু-কিশোর বন্ধুরা, কেমন আছ তোমরা? আশা করি যে যেখানে আছো ভালো ও সুস্থ আছো। তোমরা নিশ্চয়ই মোল্লা নাসিরউদ্দিন হোজ্জার নাম শুনেছ। তার পূর্ণ নাম নাসিরউদ্দিন মাহমুদ আল খায়ি। মধ্যযুগে আনুমানিক ত্রয়োদশ শতকে তিনি তুরস্কে জন্মগ্রহণ করেন।

সেলজুক শাসনামলে ইরানের বৃহত্তর খোরাসানে বসবাস করতেন। অবশ্য মধ্যপ্রাচ্য এবং মধ্য-এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশ নাসিরউদ্দিনকে তাদের দেশের লোক বলে দাবি করে। উজবেকিস্তান, আজারবাইজান আর আফগানিস্তান হোজ্জাকে তাদের লোক বলে দাবি করলেও কেবল তুরস্কের আকসেইর শহরেই প্রতিবছর জুলাই মাসের ৫ থেকে ১০ তারিখ পর্যন্ত ‘আন্তর্জাতিক নাসিরউদ্দিন হোজ্জা উৎসব’ পালন করা হয়ে থাকে।

মোল্লা নাসিরউদ্দিন হোজ্জা ছিলেন একজন বেঁটে মানুষ। মাথায় পাগড়ি আর গায়ে জোব্বা পরে একটা গাধার ওপর চড়ে তিনি ঘুরে বেড়াতেন। হোজ্জাকে নিয়ে এক হাজারেরও বেশি গল্প চালু আছে। কোনো গল্পে তাকে খুব বুদ্ধিমান একজন মানুষ মনে হয়। আবার কোনো গল্পে তার আচরণ একেবারেই বোকার মতো হয়। তবে তিনি সারাবিশ্বে পরিচিতি পেয়েছেন তার রসবোধের কারণে। তার কথাবার্তা আমাদের যেমন হাসায়, তেমনি ভাবায়ও বটে।

যাই হোক, রংধনু আসরের এ পর্বে বিখ্যাত সেই মানুষটির মজার কয়েকটি ঘটনা তোমাদের শোনাব। আর সবশেষে থাকবে ময়মনসিংহের এক নতুন বন্ধুর সাক্ষাৎকার। 

(কেউ কেউ জানিকেউ কেউ জানি না)

মোল্লা নাসিরউদ্দিন যে এলাকায় বাস করতেন সেখানকার লোকজন বেশ কিছুদিন ধরেই তাকে অনুরোধ জানাচ্ছিল যে, তাদের স্কুলে গিয়ে ছাত্রদের উদ্দেশে কিছু জ্ঞানের কথা শোনাতে হবে। ওদের অনুরোধ ফেললে না পেরে হোজ্জা শেষমেষ গেল স্কুলে। তারপর উপস্থিত ছাত্রদের উদ্দেশ্য করে হোজ্জা বললেন, “আমি আজ তোমাদের যা বলতে চাই, তা কি তোমরা জানো?”

খুব স্বাভাবিকভাবেই ছাত্ররা জবাব দিল, “না মোল্লা সাহেব, আমরা কেউই জানি না আপনি কী বলবেন।”

হোজ্জা তখন বললেন, “জানোই না যখন, তখন আর জেনে কী হবে?”

এই কথা বলে হোজ্জা গটগট করে হেঁটে চলে আসল।

পরের সপ্তাহে স্কুল থেকে আবার কয়েকজন এল হোজ্জাকে নিয়ে যেতে। হোজ্জা আবারও ওদের সামনে গিয়ে বললেন, “আমি আজ তোমাদের যা বলতে চাই, তা কি তোমরা জানো?”

এবার কিন্তু ছাত্ররা খুবই সাবধান। ওরা সবাই একসঙ্গে বলল, ‘জি মোল্লা সাহেব, আমরা সবাই জানি আপনি কী বলবেন।”

হোজ্জা তখন বললেন, “জানোই যখন, তখন আর আমার বলার দরকার কী?”

এই কথা বলে হোজ্জা আবার গটগট করে হেঁটে চলে আসল।

স্কুলের ছাত্ররা তো দমবার পাত্র না। ওরা করল কি, পরের সপ্তাহে আবার হোজ্জাকে ধরে নিয়ে গেল ওদের উদ্দেশে কিছু বলার জন্য। হোজ্জা এবারও ওদের সামনে গিয়ে বলল, “আমি আজ তোমাদের যা বলতে চাই, তা কি তোমরা জানো?”

ছাত্রদের মধ্যে কেউ কেউ বলল, ‘জি মোল্লা সাহেব, জানি।”

আর কেউ কেউ বলল, “না মোল্লা সাহেব জানি না।”

ভাবখানা এমন, এবার বাছাধন কোথায় যাবে? কিন্তু হোজ্জাও দমবার পাত্র না। তিনি বললেন, “তোমাদের মধ্যে যারা জানো তারা এক কাজ করো। কাজটি হলো- যারা জানে না, তাদের তা জানিয়ে দাও।” এই কথা বলে আবার হোজ্জা গটগট করে হেটে বাসায় চলে আসল।

1
সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত পোস্ট
মোল্লা নাসিরুদ্দীনের মজার গল্পহযরত ইউনুস (আ.)-এর মাছ
फॉलो अस
नवीनतम