পোস্টের কোড : 1969 9 পরিদর্শন

জীবনশৈলী (তৃতীয় পর্ব) : যেকোনো কাজ করার আগের এর পরিণতি সম্পর্কে ভেবে নিও

বাংলায় একটি প্রবাদ রয়েছে 'ভাবিয়া করিও কাজ, করিয়া ভাবিও না'। আমরা অনেক সময়ই হুট করে যেকোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি,কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আমাদের সিদ্ধান্তগুলো অনেক সময়ই ভুল প্রমাণিত হয়।

কিন্তু বুদ্ধিমান ও চিন্তাশীল মানুষ যেকোনো কাজ শুরুর আগে এর পরিণতির কথা ভাবে এবং মন যা চায় তাই করে না। কাজ করার আগে সাধারণত এর আধ্যাত্মিক ও বৈষয়িক লাভের দিকটি ভেবে নেয়। এ ক্ষেত্রে মানুষের বিবেক-বুদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিবেকের সহযোগিতায় যেকোনো বিষয়ের ভালো-মন্দ দিক বাছাই করা যেতে পারে। মনোবিজ্ঞানীদের মতে বিবেক হচ্ছে এমন এক সেতুর মতো যা মানুষকে চূড়ান্ত সাফল্যের নাগাল পাইয়ে দিতে সহযোগিতা করে। মহানবী (স.) চিন্তা ও বিবেকের গুরুত্ব সম্পর্কে বলেছেন, যেকোনো কাজ করার আগের এর পরিণতি সম্পর্কে ভেবে নিতে হবে যদি এর পরিণতি ভালো ও কল্যাণকর হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তাহলে সেকাজ করা যেতে পারে, আর যদি তাতে ক্ষয়-ক্ষতির আশঙ্কা থাকে তাহলে ওই কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। জীবনকে আরও সুন্দর করে তুলতে এই হাদিস মেনে চলা জরুরি।  

কাজের পরিণতির বিষয়টি আগে ভেবে নেওয়ার গুরুত্ব বোঝাতে ইরানে একটি ছোট্ট গল্প মানুষের মুখে মুখে শোনা যায়। আর তাহলো-একবার এক চড়ুই পাখি বনের ভেতরে মানুষের আসা-যাওয়ার পথে একটি গাছে বাসা তৈরি করছিল, তা দেখে বনে বুদ্ধিমান হিসেবে পরিচিত হুদহুদ পাখি রাস্তার পাশে বাসা বানাতে নিষেধ করলো। হুদহুদ বললো-চড়ুই পাখি, দেখো এখানে যে বাসা বানাচ্ছো তাতে তুমি কিন্তু যেকোনো সময় ক্ষতির মুখে পড়তে পারো। হুদহুদ সব কিছু বুঝিয়ে বলার পরও চড়ুই তাতে কর্ণপাত করলো না। এভাবে  অনেক দিন পর চড়ুই পাখি ডিম দিলো এবং ডিমে তা দিতে থাকল। কিন্তু ডিম থেকে বাচ্চা বের হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে একদিন হঠাৎ ইলেকট্রিক করাত ও লোকজনের শব্দ শুনতে পেলো। চড়ুই পাখি দেখলো বনে যাওয়ার রাস্তা প্রশস্ত করার জন্য পাশের গাছগুলো একে একে কেটে ফেলা হচ্ছে। এ অবস্থা দেখে চড়ুই পাখি চিৎকার-চেচামেচি করতে লাগল এবং চিৎকার করতে করতে হুদহুদ পাখির কাছে গিয়ে সহযোগিতা চাইলো। হুদহুদ পাখি বললো তোমাকেতো আগেই বলেছিলাম। এখনতো আর করার কিছু নেই। বাসা বানানোর আগেই তোমাকে এর পরিণতির কথা ভাবা উচিত ছিল।

0
সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে শেয়ার করুন:
फॉलो अस
नवीनतम