পোস্টের কোড : 1443 15 পরিদর্শন

প্রতি ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত ৪৫ জন

ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে সরকারের নানা উদ্যোগের মধ্যে উল্টো আরো মারাত্মক হচ্ছে পরিস্থিতি। একদিনেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এক হাজারের বেশি রোগী। দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৫১টিতেই শনাক্ত হয়েছে রোগী।

বেলায়াত প্রোর্টাল : চলতি বছর ডেঙ্গুর প্রকোপ অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। চলতি বছর রোগীর সংখ্যা ১২ হাজার ছাড়িয়েছে। এই প্রতিবেদন লেখার সময় যত সংখ্যায় রোগী হাসপাতালে ভর্তি ছিল, এই প্রতিবেদন পড়ার সময় সেই সংখ্যা বেড়ে গেছে নিশ্চিত।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার (ডেঙ্গু) এম এম আকতারুজ্জামান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘গত ১৭ জুলাই থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গুরর জীবাণুবাহী এডিস মশার যে জরিপ শুরু করেছে, আজ পর্যন্ত ওই জরিপে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এডিস মশার ঘনত্ব বেশি পাওয়া গেছে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য বলছে, রবিবার থেকে সোমবার-এই ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে এক হাজার ৯৬ জন। একদিনে এর আগে এত মানুষ আক্রান্ত হয়নি।

এর আগে শনি থেকে রবিবার ৮২৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। সেটাও ছিল একদিনে সর্বোচ্চসংখ্যক রোগী ভর্তির রেকর্ড।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখার পরিচালক আমিনুল হাসান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ৯৬ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। যা প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৪৫ জন এর মতো। এর আগে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৫ জন রোগী ভর্তি হওয়ার রেকর্ড আছে।’

গত ২৪ ঘণ্টায় শুধু ঢাকার সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেই ভর্তি হয়েছে ৮৫৬ জন ডেঙ্গু রোগী। সবচেয়ে বেশি ১২৫ জন ভর্তি হয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে আরও ২৬৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়। এর মধ্যে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি আছে ৫৩১ জন।

সরকারি হাসপাতালগুলোর মধ্যে মিটফোর্ডে ১১৩, শিশু হাসপাতালে ৩৪, সোহরাওয়ার্দীতে ৪৮, হলি ফ্যামিলিতে ৪১, বারডেমে ২৩, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৭, পুলিশ হাসপাতালে ২১, মুগদা মেডিকেলে ৬০, বিজিবি হাসপাতালে ১০ এবং কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ৭৯ জন ভর্তি হয়েছে।

দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় ৫০ এর দশক থেকেই ডেঙ্গুর বিস্তার হলেও বাংলাদেশে প্রথম ২০০০ সালে এই রোগটি ধরা পড়ে। প্রথম বছর বিপুল পরিমাণ প্রাণহানি হয়। তবে এর পরের বছরগুলোতে প্রাণহানি কিছুটা কমে আসে। তবে গত বছর থেকে আবার ডেঙ্গুর ব্যাপক বিস্তার দেখা যায়। সরকারি হিসাবে ওই বছর মারা যায় ২৮ জন।

চলতি বছর মৃতের সংখ্যা এরই মধ্যে এই সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে বলে বিভিন্ন হাসপাতালের তথ্য বলছে। যদিও সরকারি হিসাব এখনো কম। কারণ, মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েই সেই হিসাবে সন্নিবেশিত হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হিসাব মতে, এবার সংখ্যার দিক থেকে বিগত ১৮ বছরের রেকর্ড ভেঙেছে ডেঙ্গু রোগী। ২০০০ সালে ডেঙ্গু রোগী ছিল পাঁচ হাজার ৫৫১ জন, ২০০১ সালে দুই হাজার ৪৩০ জন। এরপর কয়েক বছরে রোগীর সংখ্যা আরও কমে আসে।

গত বছর কেবল ২০১৮ সালে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ১৪৮ জন  আক্রান্ত হওয়ার রেকর্ড আছে। চলতি বছর এরই মধ্যে সে রেকর্ডও ভেঙে গেছে। পরিস্থিতি শোচনীয় পর্যায়ে যাচ্ছে-এটাও স্পষ্ট।

0
সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে শেয়ার করুন:
फॉलो अस
नवीनतम