×
×
×

২ নং প্রশ্ন : কেন ইমাম হোসাইন (আ.) মদীনায় তাঁর আন্দোলন শুরু করেননি?

উত্তর : এ প্রশ্নের জবাব পেতে হলে আমাদেরকে ঐ সময়ের পরিবেশ-পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে হবে। কারণ,ইমাম হোসাইন (আ.) যখন মদীনায় ছিলেন,তখনও মুয়াবিয়ার মৃত্যুর খবর চারিদিকে ছড়ায়নি।

২ নং প্রশ্ন : কেন ইমাম হোসাইন (আ.) মদীনায় তাঁর আন্দোলন শুরু করেননি?

উত্তর : এ প্রশ্নের জবাব পেতে হলে আমাদেরকে ঐ সময়ের পরিবেশ-পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে হবে। কারণ,ইমাম হোসাইন (আ.) যখন মদীনায় ছিলেন,তখনও মুয়াবিয়ার মৃত্যুর খবর চারিদিকে ছড়ায়নি। এছাড়া মানুষ তখন পর্যন্ত মুয়াবিয়া এবং ইয়াযীদের খেলাফতের মধ্যে খুব একটা তফাৎ বুঝতে পারেনি। কারণ,যদিও বিশেষ কিছু ব্যক্তি,যেমন ইমাম হোসাইন (আ.),আবদুল্লাহ ইবনে যোবায়ের,আবদুল্লাহ ইবনে উমর ও আবদুর রহমান বিন আবু বকর ইয়াযীদকে শরাবখোর এবং কুকুর ও বানর নিয়ে খেলাকারী হিসেবে জানতেন১৭,তথাপি অধিকাংশ মানুষ মুয়াবিয়ার অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হয়ে অথবা উমাইয়া গোষ্ঠীর প্রলোভন ও হুমকির মুখে মুয়াবিয়ার জীবদ্দশায়ই তার ছেলে ইয়াযীদের হাতে বাইআত করেছিল। ১৮

এছাড়া সমর্থকের দৃষ্টিতেও স্থান হিসেবে মদীনা আন্দোলন করার জন্য খুব একটা উপযুক্ত ছিল না। কারণ :

এক. যদিও মদীনায় অধিকাংশ মানুষ আহলে বাইতকে ভালোবাসত,তথাপি তাদের ভালোবাসা এ পর্যায়ে ছিল না যে,আহলে বাইতের জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করবে কিংবা কোন ক্ষতি স্বীকার করবে। আর তারা এর নমুনা খুব ভালোভাবে সকীফা এবং পরবর্তী ঘটনায় দেখিয়েছিল। আশ্চর্যের বিষয় হলো হযরত আলী (আ.) যখন বাইআত ভঙ্গকারীদের সাথে যুদ্ধ করার জন্য মদীনাবাসীদের কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন,তখন তাদের অধিকাংশই হযরত আলী (আ.)-এর ডাকে সাড়া দেয়নি। ফলে হযরত আলী (আ.) চারশ’১৯ অথবা সাতশ’২০ সৈন্য নিয়ে বিরোধী দলের কয়েক হাজার সৈন্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। 

দুই. মহানবী (সা.)-এর ইন্তেকালের পর মদীনাবাসীরা তৎকালীন খলীফার অনুগত ছিল। তারা খলীফা আবু বকর ও উমরের এতই ভক্ত ছিল যে,নবীর সুন্নাতের পাশাপাশি উক্ত দুই খলীফার সুন্নাতের প্রতি খুবই স্পর্শকাতরতা দেখাতো। যেমন এ দলের প্রতিনিধি আবদুর রহমান বিন আউফ,উমরের গঠিত শুরা’য় (খলিফা মনোনয়ন পরিষদ) উক্ত দুই খলিফার সুন্নাত অনুসরণ করাকে হযরত আলী (আ.)-এর খলীফা হওয়ার পূর্বশর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু আলী (আ.) এ শর্ত মেনে নেননি। ২১ হযরত আলী (আ.) যখন খলীফা হন তখন তাঁর খলীফা হওয়ার পেছনেও মদীনাবাসীদের প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল না;বরং বিভিন্ন শহর থেকে আগত মুসলমানরাই প্রথম হযরত আলী (আ.)-কে খলীফা করার জন্য চাপ দিয়েছিল। 

তিন. ঐ সময়ে মদীনায় কুরাইশ বংশের বিভিন্ন শাখার বিশেষ করে উমাইয়া শাখার মারওয়ান ও তার অনুগতদের প্রভাব ছিল খুব বেশি। আর এটা সুস্পষ্ট ছিল যে,ইমাম হোসাইন (আ.) যদি আন্দোলন শুরু করতেন,তাহলে তারা দ্রুত তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিত। 

চার. ঐ সময়ে মদীনার জনসংখ্যা খুব কম ছিল। অপর দিকে কুফা,বসরা ও সিরিয়ার জনসংখ্যা ছিল খুবই বেশি। এজন্য মদীনায় অল্পসংখ্যক লোক নিয়ে একটা বড় আন্দোলন শুরু করা সহজ ছিল না। 

পাঁচ. ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়,কেন্দ্রীয় শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার জন্য মদীনা খুব একটা উপযুক্ত জায়গা ছিল না। কারণ যেসব বিদ্রোহ এ শহরে সংঘটিত হয়েছে তার প্রত্যেকটি পরাজয়ের শিকার হয়েছে। যেমন-৬৩ হিজরিতে মদীনাবাসী ইয়াযীদের বিরুদ্ধে যে বিদ্রোহ করেছিল,তা কঠোর হস্তে দমন করা হয়। ২২ একই রকম ভাবে ১৪৫ হিজরিতে২৩ মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহর (নাফ্সে যাকিয়া) আন্দোলন ও ১৬৯ হিজরিতে২৪ হোসাইন বিন আলী (ইবনে হাসান মুসাল্লাস ইবনে হাসান মুসান্না ইবনে হাসান ইবনে আলী-যিনি শহীদে ফাখ বা ফাখের শহীদ নামে প্রসিদ্ধ) আন্দোলনে মদীনার অল্পসংখ্যক লোক অংশগ্রহণ করার কারণে দুটি আন্দোলনই পরাজয়ের শিকার হয়। 

ছয়. উমাইয়া শাসনামলে মদীনাবাসী দেখিয়েছিল যে,তারা কেন্দ্রীয় শাসনের বিরুদ্ধে এবং আহলে বাইতের পক্ষে অবস্থান নিতে রাজী নয়। এর প্রমাণ হলো মুয়াবিয়ার পক্ষ থেকে হযরত আলী (আ.)-কে গালি-গালাজ করার যে রীতি চালু হয়েছিল মদীনাবাসী তার কোন প্রতিবাদ করেনি;বরং এ শহরের প্রত্যেকটা মসজিদে মিম্বারের ওপর বসে হযরত আলী (আ.)-কে গালি-গালাজ করা হতো। আর মদীনাবাসী মুয়াবিয়ার এ অন্যায় কর্মকে চোখ বুঁজে সহ্য করত। শুধু ইমাম হোসাইন (আ.) এটার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতেন,কিন্তু কেউ তাঁকে সহযোগিতা করত না। ২৫

সাত. মদীনা শহরে উমাইয়া গভর্নর ওয়ালীদ বিন উতবার খুব প্রভাব ছিল। এজন্য একটা ছোট-খাট আন্দোলনের মাধ্যমে শাসনক্ষমতা তার হাত থেকে কেড়ে নেয়া সম্ভব ছিল না। 

তথ্যসূত্র :

১৭. তারীখে ইয়াকুবী, ২য় খণ্ড, পৃ. ২২৮।

১৮. আল-ইমামাত ওয়াস সিয়াসাত, ১ম খণ্ড, পৃ. ১৬১-১৬৪।

১৯. তারীখে ইয়াকুবী, ২য় খণ্ড, পৃ. ১৮১।

২০. মুরুজুয যাহাব, ২য় খণ্ড, পৃ. ৩৯৫।

২১. তারীখে ইয়াকুবী, ২য় খণ্ড, পৃ. ১৬২।

২২. আল-কামিল ফিত্ তারীখ, ২য় খণ্ড, পৃ. ৫৯৩।

২৩. প্রাগুক্ত,পৃ. ৫৬৩-৫৭৯।

২৪. তারীখে ইয়াকুবী, ২য় খণ্ড, পৃ. ৪০৪ ও ৪০৫।

২৫. বিহারুল আনওয়ার, ৪৪তম খণ্ড, পৃ. ২১১।



लाइक कीजिए
0
फॉलो अस
नवीनतम
ইরান মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে হত্য ...

ইরানের উপরে শক্তিশালী হামলা চালানো হবে: ট্রাম্প

মাস্ক না পরলে সারাদিন কবর খুঁড ...

মাস্ক না পরলেই পাঠিয় দেওয়া হচ্ছে কবরখানায়

ভেনিজুয়েলায় সম্পূর্ণ সতর্কতা

মার্কিন বিমান ভূপাতিত করল ভেনিজুয়েলা

ট্রাম্পকে সাদ্দামের মতো কবরস্থ ...

ইরানের উপর ট্রাম্পের হামলা?

ভারতের পাকিস্তানিদের মৃত্যুর ব ...

ভারতে ১১ পাকিস্তানির রহস্যজনক মৃত্যু