পোস্টের কোড : 2045 35 পরিদর্শন

সোলেইমানির মৃত্যুকে স্বাগত জানিয়েছে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এক ড্রোন হামলায় ইরানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ও অভিজাত কুদস বাহিনীর সাবেক প্রধান জেনারেল কাসেম সোলেইমানির মৃত্যুকে স্বাগত জানিয়েছে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, উপরওয়ালার নির্দেশেই জিহাদিদের সুবিধার জন্যই সোলেইমানিকে হত্যা করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে জানায় আইএস।

সোলেইমানি নিহতের প্রতিক্রিয়া ইরাক থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারে দেশটির পার্লামেন্টে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। যদি ইরাক থেকে মার্কিন সৈন্য চলে যায়, তাহলে সবচেয়ে লাভবান হবে আইএস। কারণ ইরাকে বিশাল অংশ দখল করে নেওয়া আইএসের জঙ্গিদের উৎখাতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনী ও জেনারেল সোলেইমানির পরিচালনায় ইরাকের শিয়া মিলিশিয়া বাহিনীগুলো পাশাপাশি থেকে লড়াই করেছিল।

তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শিগগিরই ইরাক থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, বাগদাদে মার্কিন ঘাঁটি তৈরিতে যে ব্যয় হয়েছে,  ইরাক তার ক্ষতিপূরণ দিলে তারা সৈন্য প্রত্যাহার করবে। 

সোলেইমানি হত্যাকাণ্ডের পর তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনী ইরাকে আইএসের বিরুদ্ধে লড়াই স্থগিত করে। নিজেদের রক্ষা করাই এখন ইরাকের মূল কাজ বলে ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্র বাহিনীগুলো। মার্কিন বাহিনীর সাহায্য ছাড়াই আইএস দমনে ইরাকি বাহিনী সক্ষম বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী। 

বিবিসি বলছে, ইতিহাস দেখিয়েছে, অস্থিতিশীলতা, বিশৃঙ্খলায় যখন তাদের বিপক্ষ শক্তিগুলো দুর্বল ও বিভক্ত হয়েছে তখনই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েছে জঙ্গিরা। আগেও এমনটি হয়েছে এবং ফের একই ঘটনার পুনারাবৃত্তি হওয়ার জোর সম্ভাবনা আছে।

সোলেইমানির হত্যার পর ইরান ও ইরাকে ইরান সমর্থিত মিলিশিয়া বাহিনীগুলো এ হত্যার বদলা নেওয়ার অঙ্গীকার করে। এতে এসব বাহিনীর বন্দুকের নল ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনী ও তাদের পশ্চিমা মিত্র বাহিনীগুলো দিকে ঘুরে যায়।  

এই পরিস্থিতি আইএসের জন্য বিরাট সুযোগ। ‘খিলাফত’ ধ্বংস হওয়ার পর যে পরিস্থিতির মুখোমুখি তারা হয়েছে তার থেকে বের হয়ে আসার এ সুযোগটি তারা দ্রুততার সঙ্গে গ্রহণ করবে বলেই ধারণা বিশ্লেষকদের।

অনেক জঙ্গি লড়াইয়ে মারা গেলেও এবং বহু জঙ্গি কারাগারে থাকলেও তাদের সংগঠনকে নিশ্চিহ্ন করা যায়নি। এটি এখনও সক্রিয় আছে এবং ইরাক ও সিরিয়ার প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়ে হত্যাকাণ্ড অব্যাহত রেখেছে। পাশাপাশি জোর করে অর্থ আদায়ও বজায় রেখেছে তারা।  

গত সপ্তাহে ইরাকের বাগদাদের একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাছে মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছিলেন সোলেইমানি। তার মৃত্যুতে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বে তোলপাড় শুরু হয়। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘চরম প্রতিশোধ’ গ্রহণের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছিল। ২০১৫ সালে বিশে^র পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোর সঙ্গে অনুষ্ঠিত চুক্তির নির্দেশনা মানবে না বলেও জানায় ইরান। 

জানা যায়, মধ্যপ্রাচ্যে একক মার্কিন আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় সোলেইমানি বড় প্রতিবন্ধক ছিল। কারণ সোলেইমানির রণনীতির নিকট মার্কিন সামরিক বাহিনী বারবার পরাজিত হয়েছিল।
সর্বোচ্চ সামরিক জেনারেল নিহতের ঘটনায় বাগদাদে মার্কিন ঘাঁটিতে প্রায় ২০টি মিসাইল ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। তবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৮০ মার্কিন সেনা নিহতের দাবি করেছিল ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলো। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বক্তব্যে জানান যে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কোনো মার্কিন সেনা নিহত হয়নি। তবে এ হামলার প্রতিক্রিয়া ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। 

0
সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে শেয়ার করুন:
फॉलो अस
नवीनतम