পোস্টের কোড : 1026 303 পরিদর্শন

হযরত আলী (আঃ) কে কেন মাওলা বলা হয় —

হযরত আলী (আঃ) কে কেন মাওলা বলা হয় —

মাওলা আলী কেন বলা হয় ?

বার ইমামীয়া শীয়ারা যখন বলে – “মাওলা আলী” তখন আমাদের ফতোয়াদন্ড জাগ্রত হয় !
আমরা বলি নাউযুবিল্লাহ ..
শুধু এতটুকু বলেই থামিনা বরং শীয়ারা কুফফার! বা শীয়া কাফের বলে থাকি !!
কারন শীয়ারা আলীকে মাওলা বলে ! শীয়াদের এত বড় সাহস ?

আসলে “মাওলা” শব্দের অর্থ না জানলে যা হয় এখানে তাই হয়েছে !

অথচ একই শব্দ – আমরা সুন্নীরা হর হামেশাই ব্যবহার করছি তাতে কিন্ত সমস্যা নেই !
আমরা হরহামেশা বিড়ালকে বাঘ বানাচ্ছি অথচ শীয়ারা বাঘকে বাঘ বলায় আমাদের যত আপত্তি !

পাঠক ,
আসুন জেনে নেই –
“মাওলা” শব্দের প্রকৃত অর্থ হচ্ছে – অভিবাব , নেতা, বন্ধু ইত্যাদি । এধরনের অর্থবোধক শব্দে মাওলা কথাটি ব্যবহর হয়।

বিদায় হজ্ব থেকে ফেরার পথে গাদীরে খুম নামক স্থানে লক্ষাধিক হজ্ব ফেরৎ হাজি সাহাবাদের সম্মুখে স্বয়ং রাসূল (সাঃ) নিজে বলেছেন —
‘ আমি যার মাওলা , এই আলী তার মাওলা। আমার পরে আলী হবে মুমিনদের মাওলা ‘।

তাহলে রাসুল (সাঃ) এর নির্দেশ মোতাবেক ইমাম আলী (আঃ) কে শীয়ারা মাওলা বললে আপনার আমার এত ফতোয়াগিরি হয় কেন ?
কেন আমাদের এত গাত্রদাহ হয় ?

পাঠক ,
দয়া করে আরও লক্ষ করুন –
আমরা সাধারনত একজন আলেম কে নামের আগে মাওলানা যোগ করে বলি ।
মাওলানা অমুক মাওলানা তমুক।

অথচ মাওলানা শব্দের অর্থ কি আমরা জানি ?
মাওলানা শব্দের উৎপত্তি মাওলা থেকে না হচ্ছে জমির যা দ্বারা বচন এবং নির্দিষ্ট করন বোঝায়।
মাওলানা শব্দের অর্থ – আমাদের নেতা, আমাদের অভিবাবক , আমাদের বন্ধু এরকম বোঝায়।

আসলে যে কোন বিষয় বিশেষ করে ধর্মের বিষয় না জানলে যা হয় তাই হয়েছে আমাদের ক্ষেত্রে।
আমরা আমাদের ধর্মের বিষয় অপরের উপর এতটাই নির্ভরশীল হয়ে পড়েছি যে , নিজেরা যাচাই বাছাই করি না।

আমাদের আলেমগন যা বলে আমরা তাই চোখ বন্ধ করে গ্রহন করি।
আমরা এতটাই পরনির্ভরশীল যে , আমরা একটিবার কোরআন পড়ে বা হাদীস খুলে দেখার প্রয়োজনবোধ করিনা।
সব থেকে যেটা ভয়ংকর সেটা হচ্ছে যে , আমি যা বুঝি সেটিই সত্য ও সঠিক এবং বাকীরা সব ভ্রান্ত।

পরমত পরসহিঞ্চুতা – এ বিষয়টা আমাদের মধ্যে নেই বললেই চলে।
আমাদের অবস্থা সেই কূয়োর মধ্যে ব্যাঙের মত ! কূয়োটাকেই আমরা মহাসমুদ্র বলে মনে করি।
তাই আসুন , এবারে চোখ মেলে বিশ্বটাকে দেখার চেষ্টা করি।

সত্য ও মিথ্যার প্রভেদকারী হল পবিত্র কোরআন।
বাংলা অনুবাদ সহ পবিত্র কোরআন পড়ি এবং সেই সাথে ইসলামিক বিভিন্ন স্কলারদের কিতাব সমূহ পাঠ করি।
কথা দিলাম , আমাদের প্রচলিত দৃষ্টিভংগী পাল্টে যাবে।
সকলকে ধন্যবাদ।

0
সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে শেয়ার করুন:
फॉलो अस
नवीनतम