পোস্টের কোড : 1398 84 পরিদর্শন

হযরত আলী খামেনেয়ী অন্য রকম নেতা

ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কথাই চূড়ান্ত। তিন দশক সময় ধরে তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা।

বেলায়াত প্রোর্টাল : ‘আমি একজন দুর্বল চিত্তের মানুষ, শরীর-স্বাস্থ্যও কমজোর। যেটুকু মানমর্যাদা আছে, তা আপনারা আমাকে দিয়েছেন—আমি এর সবকিছুই বিপ্লব ও ইসলামের জন্য উৎসর্গ করব।’ ২০০৯ সালে কথাগুলো বলেছিলেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।
কিন্তু বহির্বিশ্ব সম্ভবত তাঁর সম্পর্কে মাত্র দুটি বিষয় জানে। একটি হচ্ছে, তাঁর নাম প্রায় আগের সর্বোচ্চ নেতার (আয়াতুল্লাহ খোমেনি) মতোই। অন্যটি হচ্ছে, পদে নিচুতে থাকলেও সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদই প্রচারে তাঁকে ছাপিয়ে থাকেন।
আলী খামেনিকে বহির্বিশ্ব যখন দেখে, তখন প্রায়ই তাঁকে দেখা যায় যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে বিষোদগার করতে। কিন্তু অন্যদিকে বাগান করা আর কবিতা পাঠ তাঁর দুটি প্রিয় শখ।
আলী খামেনি ১৯৩৯ সালে উত্তর ইরানের মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন। এটি দেশটির সবচেয়ে পবিত্র নগর হিসেবে গণ্য। খামেনি তাঁর বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করেন এবং ইমাম হন। এটি সহজ সিদ্ধান্ত ছিল না। কেননা তিনি শাসক মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভির সময়ে বেড়ে ওঠেন। রেজা শাহ একজন ধর্মনিরপেক্ষ শাসক ছিলেন, যাঁর মতে ধর্ম হচ্ছে সেকেলে ও সন্দেহজনক বিষয়।
আলী খামেনি ঠেকেননি। বড় হয়ে তিনি বিয়ে করেন এবং ছয় সন্তানের বাবা হন। তাঁর ভাইপো মাহমুদ মোরাদখানি ফ্রান্সে নির্বাসনে রয়েছেন। মাহমুদ স্মৃতিচারণ করে বলেন, তাঁর চাচা একজন শান্তশিষ্ট মানুষ, যিনি কবিতা পছন্দ করেন। তিনি খুব ভালো এবং মিশুক ধরনের মানুষ।
ভাইপো মাহমুদের মতে, চাচা খামেনি ছিলেন খুব সাধারণ মানুষ। চোখে পড়ার মতো কিছু ছিল না তাঁর মধ্যে।
আলী খামেনি ইরানের ইসলামী বিপ্লব-পূর্ব শাসক শাহের প্রধান শত্রু নির্বাসিত ইমাম আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনিকেও সমর্থন করতেন। আয়াতুল্লাহ খোমেনি ইরানে ইসলামী শাসনব্যবস্থা চালুর পক্ষে ছিলেন।
১৯৭০-এর দশকে ইরানের মার্কসবাদী দলগুলোও শাহকে উৎখাত করতে চেষ্টা করেছিল। এ জন্য কমিউনিস্টদেরও ঠাঁই হয় কারাগারে। ঘটনাক্রমে কারাগারের একই প্রকোষ্ঠে জায়গা হয় ইমাম আলী খামেনি আর তরুণ কমিউনিস্ট হাওশাং আসাদির। আদর্শে দুই মেরুর হলেও ইমাম খামেনি ও কমিউনিস্ট আসাদির মধ্যে ভালোই বনিবনা হয় কারাকক্ষে।
১৯৭৯ সালে ইরানে সবকিছু পাল্টে যায়। পতন হয় শাহের। আয়াতুল্লাহ খোমেনি প্যারিস থেকে দেশে ফিরে আজকের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা করেন। তখন থেকে ইরান ইমাম অর্থাৎ ধর্মীয় নেতাদের দিয়ে শাসিত হচ্ছে। আলী খামেনি তাঁদেরই একজন।
খামেনি সম্পর্কে আসাদি বলেন, ‘তিনি খুব ভালো মানুষ ছিলেন। ছোট ছোট বিষয় নিয়ে মজার কৌতুক করতেন।’
আপনি কি কখনো ভেবেছিলেন সেই খামেনি শেষ পর্যন্ত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হবেন—এই প্রশ্নের জবাবে আসাদ বলেন, ‘কখনোই না, কখনোই না, কখনোই না।’
তখন ৪০ বছর বয়সী খামেনি আয়াতুল্লাহ খোমেনির ঘনিষ্ঠজনদের একজন হন। তাঁকে তেহরানে শুক্রবারের জুমার নামাজের ইমাম করা হয়। কিন্তু আলী খামেনির জীবনে আরও বড় কিছু ঘটনা অপেক্ষা করছিল। ১৯৮১ সালের জুন মাসে একটি বিরোধী দল তাঁকে হত্যার চেষ্টা করে। এক সংবাদ সম্মেলনের সময় তাঁর পাশে রাখা একটি টেপ রেকর্ডারে বোমা পেতে রাখা হয়। ওই বোমার বিস্ফোরণে খামেনি ডান বাহুতে মারাত্মক আঘাত পান। বোমা হামলার পর ভালো করে সেরে না উঠতেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন খামেনি।
১৯৮৯ সালের জুন মাসে আয়াতুল্লাহ খোমেনির মৃত্যু হলে নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনে বৈঠকে বসেন দেশটির ধর্মীয় নেতারা। নিরাপদ, সবার পছন্দের ব্যক্তিত্ব হিসেবে মনোনীত হন আলী খামেনি।
খামেনির জীবনী লেখক মেহদি খালাজি বলেন, ‘তিনি খুবই সাধারণ একজন মানুষ এবং আমি মনে করি এটাই তাঁর সফলতার চাবিকাঠি।’
মেহদি খালাজি বলেন, খামেনি যে বড় কাজগুলো করেন, তাঁর একটি হচ্ছে ইরান-ইরাক যুদ্ধের পর তিনি রেভ্যলুশনারি গার্ডের ক্ষমতা বাড়াতে খুব যথাযথ ও সূক্ষ্ম পরিকল্পনা করেন। রেভ্যলুশনারি গার্ডের ওপর নির্ভর করা এবং তাদের ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তিনি নিজ ক্ষমতাও সংহত করেন এবং ক্রমে শক্তিশালী একজন নেতায় পরিণত হন। খামেনির বয়স বর্তমান ৮০।  তিনি ইরানের রাজধানী তেহরানে অতি ছোট্ট বাড়িতে সাধারণ জীবন যাপন করেন।

1
সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে শেয়ার করুন:
फॉलो अस
नवीनतम