পোস্টের কোড : 1422 10 পরিদর্শন

ট্রাম্পের অবমাননাকর বক্তব্যে ক্ষুব্ধ কাবুল

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, দীর্ঘ ইতিহাসে তার দেশ বহু সংকট অতিক্রম করে এসেছে এবং আফগানিস্তানের ভবিষ্যত বা ভাগ্য নির্ধারণের অধিকার বিদেশি কোনো শক্তির নেই।

বেলায়াত প্রোর্টাল : আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্টের দফতর থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় আফগানিস্তান বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্যকে আরো স্পষ্ট ও স্বচ্ছ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ওয়াশিংটনে পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে বৈঠকে বলেছেন, 'যদি আমি যুদ্ধে জিততে চাইতাম, তাহলে এক সপ্তাহের মধ্যেই আফগানিস্তানের নাম পৃথিবীর বুক থেকে মুছে যেত। দশ দিনেই সব শেষ হয়ে যেত। আমি শুধু এক কোটি মানুষকে হত্যা করতে চাইনি।' তবে কীভাবে আফগানিস্তানের নাম উধাও করে দিতেন-সে ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু বলেননি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এমন সময় মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে আফগানিস্তানকে শেষ করে দিতে পারতেন বলে যে মন্তব্য করেছেন যখন আমেরিকা গত ১৮ বছর ধরে আফগানিস্তানের চোরাবালিতে আটকা পড়ে আছে এবং আফগান যুদ্ধে আমেরিকা এ পর্যন্ত কোটি কোটি ডলার খরচ করেছে ও বহু মার্কিন সৈন্য নিহত হয়েছে। অত্যাধুনিক অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার করেও আমেরিকা আফগান যুদ্ধে কোনো সফলতাই অর্জন করতে পারেনি। আবার এ ব্যর্থতার কথা স্বীকারও করতে প্রস্তুত নন মার্কিন কর্মকর্তারা বরং তারা বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে আফগানিস্তান সম্পর্কে অবমাননাকর বক্তব্য দিচ্ছেন।

আফগানিস্তানের রাজনৈতিক বিশ্লেষক রাহেল মুসাভি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলেছেন, "প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এর আগেও বিভিন্ন জায়গায় আফগানিস্তান সম্পর্কে অবমাননাকর বক্তব্য দিয়েছেন। কিন্তু এবার তিনি যে মন্তব্য করেছেন তা তীব্রতার দিক থেকে অতীতের সকল অবমাননাকর বক্তব্যের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।" তিনি বলেন, "ট্রাম্পের এ বক্তব্য কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত এবং আফগানিস্তানের বাস্তবতার সঙ্গে এর কোনো মিল নেই।"

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এমন সময় তিনি চাইলে এক সপ্তাহের মধ্যেই আফগানিস্তানের নাম পৃথিবীর বুক থেকে মুছে দিতে পারতেন বলে মন্তব্য করেছেন যখন আমেরিকা আফগানিস্তানের চোরাবালিতে আটকা পড়ায় এবং যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন তালেবানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে বাধ্য হয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, আমেরিকা এমন সময় তালেবানের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে যখন আফগানিস্তানে আমেরিকার কোনো লক্ষ্যই অর্জিত হয়নি।

আফগানিস্তানের রাজনৈতিক বিশ্লেষক রাহেল মুসাভি বলেছেন, "কাতারে আমেরিকা ও তালেবানের মধ্যকার শান্তি আলোচনা অব্যাহত রয়েছে যা থেকে আফগানিস্তানে আমেরিকার ব্যর্থতা ফুটে উঠেছে। আমেরিকা এখন সম্মানের সঙ্গে আফগানিস্তানের চোরাবালিতে থেকে উদ্ধারের চেষ্টা করছে।"

বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এমন সময় মাত্র এক সপ্তাহে আফগানিস্তানকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলতে পারতেন বলে মন্তব্য করেছেন যখন এমন ইতিহাসও আছে যে অনেক কম সুযোগ সুবিধা নিয়ে আফগান জনগণ কয়েকটি পরাশক্তিকে পরাজিত করেছে। আমেরিকার আগে তারা সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে এবং এরও আগে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। তাদের মতে, আফগানিস্তানের ভবিষ্যত আমেরিকার কাছে মোটেই গুরুত্বপূর্ণ নয়। এ কারণে তালেবানের সঙ্গে আমেরিকার আলোচনার ব্যাপারে আফগান জনগণের আরো বেশি সতর্ক থাকা দরকার এবং বিদেশিদেরকে তাদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলার সুযোগ দেয়া উচিত হবে না।

0
সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে শেয়ার করুন:
फॉलो अस
नवीनतम