×
×
×

আহলে সুন্নাত ভাইদের দৃষ্টিতে ইমাম মাহ্দী (আ.)

ইমাম মাহ্দী (আ.) সম্পর্কে সিহাহ্ সিত্তাহ্ ও আহলে সুন্নাতের অন্যান্য সূত্রে অসংখ্য হাদীস রয়েছে। এখানে উদ্ধৃত নিম্নোক্ত হাদীস ও বর্ণনাগুলো এমন যেগুলোর সত্যতা ও প্রামাণ্যতার ব্যাপারে আহলে সুন্নাতের হাদীস বিশারদগণ একমত।

আহলে সুন্নাত ভাইদের নিকট সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য হাদীস সংকলন ছয়টি যা সিহাহ্ সিত্তাহ্’ নামে পরিচিত। হাদীসের প্রামাণ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করার জন্য আহলে সুন্নাতের হাদীস সংকলকগণ যে সব মূলনীতি প্রণয়ন করেছেন এ ছটি সংকলন সে সব মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এ ছটি গ্রন্থ হচ্ছে: সহীহ্ আল বুখারীসহীহ্ আল মুসলিমসহীহ্ আত্ তিরমিযীসুনানে ইবনে মাজাহ্সুনানে আবু দাউদ ও সহীহ্ আন্ নাসাঈ। 

ইমাম মাহ্দী (আ.) সম্পর্কে সিহাহ্ সিত্তাহ্ ও আহলে সুন্নাতের অন্যান্য সূত্রে অসংখ্য হাদীস রয়েছে। এখানে উদ্ধৃত নিম্নোক্ত হাদীস ও বর্ণনাগুলো এমন যেগুলোর সত্যতা ও প্রামাণ্যতার ব্যাপারে আহলে সুন্নাতের হাদীস বিশারদগণ একমত।

১. মহানবী (সা.) বলেছেন: এমনকি সমগ্র বিশ্বের আয়ু যদি শেষ হয়ে গিয়ে থাকে এবং কিয়ামত হতে একদিনও অবশিষ্ট থাকে তাহলেও মহান আল্লাহ্ ঐ দিবসকে এতটা দীর্ঘায়িত করবেন যাতে তিনি ঐ দিবসেই আমার আহলে বাইতের মধ্য থেকে এক ব্যক্তির শাসনকর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত করে দিতে পারেন যাকে আমার নামেই ডাকা হবে। পৃথিবী অন্যায়-অত্যাচারে ভরে যাওয়ার পর সে তা শান্তি ও ন্যায়ে পূর্ণ করে দেবে।’- তিরমিযী ২য় খণ্ডপৃ. ৮৬৯ম খণ্ডপৃ. ৭৪-৭৫আবু দাউদ২য় খণ্ডপৃ. ৭মুসনাদে আ‏‏‏হমদ ইবনে হামবল১ম খণ্ডপৃ. ৩৭৬৩য় খণ্ডপৃ. ৬৩মুস্তাদরাকুস্ সাহীহাইন (হাকেম)৪র্থ খণ্ডপৃ. ৫৫৭আল মাজমা (তাবরানী)পৃ. ২১৭তাহযীবুস্ সাবিত (ইবনে হাজার আসকালানী)৯ম খণ্ডপৃ. ১৪৪আস সাওয়ায়িকুল মুহ্রিকাহ্ (ইবনে হাজার হাইসামী)১১শ অধ্যায়উপাধ্যায় ১পৃ. ২৪৯কানযুল উম্মাল৭ম খণ্ডপৃ. ১৮৬ইকদুদ দুরার ফী আখবারিল মাহ্দী আল মুনতাযার১২শ খণ্ড১ম অধ্যায়আল বায়ান ফী আখবারি সাহিবিয যামান (গাঞ্জী শাফিয়ী)১২শ অধ্যায়ফাতহুল বারী (ইবনে হাজার আসকালানী)৭ম খণ্ডপৃ. ৩০৫আল তাযকিরাহ্ (কুরতুবী)পৃ. ৬১৭আল হাভী (সুয়ূতী)২য় খণ্ডপৃ. ১৬৫-১৬৬শারহুল মাওয়াহিবুল লাদুন্নীয়াহ্ (যুরকানী)৫ম খণ্ডপৃ. ৩৪৮ফাতহুল মুগীস (সাখাভী)৩য় খণ্ডপৃ. ৪১আরজাহুল মাতালিব (উবায়দুল্লাহ্ হিন্দী)পৃ. ৩৮০আল মুকাদ্দিমাহ্ (ইবনে খালদুন)পৃ. ২৬৬জামিউস সাগীর (সুয়ূতী)পৃ. ১৬০আল উরফুল ওয়ারদী (সুয়ূতী)পৃ. ২।

আশ শাফিয়ী (ওফাত ৩৬৩/৯৭৪) বলেছেনযেএ হাদীস বিপুল সংখ্যক সূত্রে বর্ণিত এবং বহু সংখ্যক বর্ণনাকারী কর্তৃক তা মুসলিম বিশ্বের সর্বত্র বর্ণিত ও প্রচারিত হয়েছে। এছাড়া হাদীসটি ইবনে হিববানআবু নাঈমইবনে আসাকির প্রমুখ কর্তৃক লিখিত গ্রন্থাদিতেও উদ্ধৃত হয়েছে।

২. রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বলেছেন: মাহ্দী ফাতিমার বংশধর।’ (ইবনে মাজাহ্২য় খণ্ডহাদীস নং ৪০৮৬নাসাঈবাইহাকীআস সাওয়ায়িকুল মুহ্রিকাহ্অধ্যায় ১১উপাধ্যায় ১পৃ. ২৪৯ এর বর্ণনানুসারে অন্যান্য হাদীস সংকলকগণ)।

৩. মহানবী (সা.) বলেছেন: আমরা আবদুল মুত্তালিবের বংশধরগণ বেহেশতবাসীদের নেতা: স্বয়ং আমিহামযাহ্আলীজাফরহাসানহুসাইন এবং মাহ্দী।’ (ইবনে মাজাহ্২য় খণ্ডহাদীস নং ৪০৮৭মুস্তাদরাকে হাকেম (আনাস ইবনে মালিক-এর সূত্রে বর্ণিত)দাইলামীআস সাওয়ায়িকুল মুহরিকাহ্অধ্যায় ১১উপাধ্যায় ১পৃ. ২৪৫)

৪. মহানবী (সা.) বলেছেন: আমার ও আমার আহলে বাইতের সদস্যদের জন্য আল্লাহ্ পারলৌকিক জীবনকে ইহলৌকিক জীবনের ওপর অগ্রাধিকার দিয়েছেন ও মনোনীত করেছেন। আমার (ওফাতের) পরে আমার আহলে বাইতের সদস্যরা অনেক কষ্ট ভোগ করবে এবং তাদেরকে ঘর-বাড়ি থেকে বলপূর্বক উচ্ছেদ করা হবে। তখন প্রাচ্য থেকে একদল লোক কালো পতাকাসহ আগমন করবে এবং তাদেরকে কিছু ভাল জিনিস (অধিকার) প্রদান করার জন্য তারা আবেদন করবে। কিন্তু তারা প্রত্যাখ্যাত হবে অর্থাৎ তাদেরকে সেই অধিকার দেয়া হবে না। এ কারণে তারা যুদ্ধ শুরু করবে। সে যুদ্ধে তারা বিজয়ী হবে এবং তারা যা প্রথমে চেয়েছিল তা-ই তাদেরকে দেয়া হবে। কিন্তু তারা তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করবে যতক্ষণ না আমার আহলে বাইত থেকে এক ব্যক্তি আবির্ভূত হবে এবং যেভাবে পৃথিবী অন্যায়-অবিচারে পূর্ণ হয়ে যাবে ঠিক সেভাবে তা ন্যায় ও সুবিচার দিয়ে পূর্ণ করে দেবে। তাই যে ব্যক্তি ঐ যুগ প্রত্যক্ষ করবে তার উচিত হবে বরফের ওপর দিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তাদের সাথে মিলিত হওয়া।’ (ইবনে মাজাহ্২য় খণ্ডহাদীস নং ৪০৮২তারিখে তাবারীআস সাওয়ায়িকুল মুহ্রিকাহ্অধ্যায় ১১উপাধ্যায় ১পৃ. ২৫০-২৫১)

৫. রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বলেছেন : মাহ্দী আমার আহলে বাইত থেকে আবির্ভূত হয়ে একটি বিপস্নব ঘটাবে এবং পৃথিবী অন্যায়-অবিচার ও অত্যাচারে পরিপূর্ণ হয়ে যাওয়ার পর তাকে ন্যায় ও সাম্য দ্বারা পূর্ণ করে দেবে।’ (মুসনাদে আহমাদ১ম খণ্ডপৃ. ৮৪জামিউস সাগীরপৃ. ২ ও ১৬০আল উরফুল ওয়ার্দীপৃ. ২কানযুল উম্মাল৭ম খণ্ডপৃ. ১৮৬ইকদুদ দুরার১২শ খণ্ডঅধ্যায় ১আল বায়ান ফী আখবারি সাহিবিয যামান১২শ অধ্যায়আল ফুসুসুল মুহিম্মাহ্১২শ অধ্যায়আরজাহুল মাতালিবপৃ. ৩৮০আল মুকাদ্দিমাহ্পৃ. ২৬৬)

৬. মহানবী (সা.) বলেছেন: আল্লাহ্ শেষ বিচার দিবসের আগেএমনকি এ পৃথিবীর আয়ুষ্কাল যদি একদিনও অবশিষ্ট থাকেআমার আহলে বাইতের মধ্য থেকে মাহ্দীকে অন্তর্ধান থেকে আবির্ভূত করবেন। সে এ পৃথিবীতে ন্যায় ও সুবিচারের প্রসার ঘটাবে এবং সব ধরনের অন্যায়অত্যাচার ও অবিচারের মূলোৎপাটন করবে।’ (মুসনাদে আহ্মাদ১ম খণ্ডপৃ. ৯৯)

সুনানে আবু দাউদেও উপরিউক্ত হাদীসের অনুরূপ একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে। (ইংরেজি অনুবাদঅধ্যায় ৩৬হাদীস নং ৪২৭০)

৭. জাবির ইবনে আবদুল্লাহ্ আল আনসারী (রা.) বলেছেন: আমি রাসূলুল্লাহ্কে বলতে শুনেছি : আমার উম্মাহ্‌ একদল ব্যক্তি শেষ বিচার দিবসের কাছাকাছি সময় পর্যন্ত সত্যের জন্য যুদ্ধ করতে থাকবে। তখন ঈসা ইবনে মারইয়াম অবতরণ করবেন এবং তাদের নেতা (মাহ্দী) তাঁকে নামায পড়ানোর জন্য অনুরোধ করবেকিন্তু ঈসা অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে বলবেন : নাআপনাদেরকে মহান আল্লাহ্ অন্যদের (সমগ্র মানব জাতির) জন্য নেতা মনোনীত করেছেন।’ (মুসলিম২য় খণ্ডপৃ. ১৯৩মুসনাদে আহমাদ৩য় খণ্ডপৃ. ৪৫ ও ৩৮৪আস সাওয়ায়িকুল মুহ্রিকাহ্অধ্যায় ১১উপাধ্যায় ১পৃ. ২৫১সুয়ূতী প্রণীত নুযূল ঈসা ইবনে মারইয়াম আখিরায যামান)

৮. জাবির ইবনে আবদুল্লাহ্ বলেছেন : রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বলেছেন : আমার উম্মতের মধ্য থেকে একদল লোক ঈসা ইবনে মারইয়ামের অবতরণ পর্যন্ত সত্যের জন্য যুদ্ধ করতে থাকবে। ঈসা ইবনে মারইয়াম অবতরণ করলে তাদের ইমাম (মাহ্দী) তাঁকে নামায পড়ানোর জন্য অনুরোধ করবে। কিন্তু ঈসা বলবেন : এ কাজ করার জন্য আপনি অধিক হকদার। আর মহান আল্লাহ্ এ উম্মতে আপনাদের মধ্য থেকে কয়েকজনকে অন্যদের ওপর মর্যাদা দিয়েছেন।’ (মুসনাদে আবু ইয়ালাসহীহ্ ইবনে হিববান)

মনীষীদের অভিমত:

ইবনে আবী শাইবাহ্ (আহলে সুন্নাতের প্রসিদ্ধ হাদীসশাস্ত্রবিদ এবং সহীহ্ বুখারী ও সহীহ্ মুসলিমের ব্যাখ্যাকার) ইমাম মাহ্দী (আ.) সম্পর্কে অনেক হাদীস বর্ণনা করেছেন যাতে বলা হয়েছে যেইমাম- যিনি নামাযে হযরত ঈসা ইবনে মারইয়ামেরও ইমাম হবেন তিনি মাহ্দী (আ.)।

সুয়ূতী উল্লেখ করেছেন : হযরত ঈসা (আ.) যখন অবতরণ করবেন তখন ইমাম মাহ্দী (আ.)-এর পিছনে নামায পড়বেন- এতদসংক্রান্ত হাদীসসমূহ যে সব ব্যক্তি অস্বীকার করেছে তাদের মধ্য থেকে কতিপয় ব্যক্তিকে আমি সত্য অস্বীকার করে বলতে শুনেছি : এমন ব্যক্তি যিনি নবী ননতাঁর পিছনে নামায পড়া অপেক্ষা ঈসা (আ.)-এর মর্যাদা উচ্চতর।’ কিন্তু পরম সত্যবাদী মহানবী (সা.)-এর নিকট থেকে বহু সংখ্যক সহীহ্ হাদীসের মাধ্যমে ইমাম মাহ্দী (আ.)-এর পিছনে হযরত ঈসা ইবনে মারইয়ামের নামায পড়ার বিষয়টি দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এটি একটি অদ্ভুত অভিমত।

আল্লামা সুয়ূতী এ ব্যাপারে বেশ কিছু হাদীস বর্ণনা করেছেন। (নুযূলু ঈসা ইবনে মারইয়াম আখিরায যামান)

ইবনে হাজার আসকালানী বলেছেন : মাহ্দী এ উম্মতেরই একজন। হযরত ঈসা অবতরণ করে তাঁর পিছনে নামায পড়বেন।’ (ফাতহুল বারী৫ম খণ্ডপৃ. ৩৬২)

আহলে সুন্নাতের আরেক বিখ্যাত আলেম ইবনে হাজার হাইসামীও একই কথা উল্লেখ করে বলেছেন :  ‘আহলে বাইত আকাশের তারকারাজির ন্যায় যাদের মাধ্যমে আমরা সঠিক দিকে পরিচালিত হই এবং তারকারাজি যদি অস্ত যায় (ঢাকা পড়ে যায়) তাহলে আল্লাহ্‌র প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমরা কিয়ামত দিবসের নিদর্শনাদির মুখোমুখি হব। আর হাদীস অনুযায়ী এটি তখনই ঘটবে যখন ইমাম মাহ্দী (আ.)-এর আগমন হবেনবী হযরত ঈসা (আ.) তাঁর পিছনে নামায পড়বেন এবং দাজ্জালকে হত্যা করা হবে। আর তখনই সর্বশক্তিমান আল্লাহ্‌র নিদর্শনসমূহ একের পর এক প্রকাশ পেতে থাকবে।’ (আস সাওয়ায়িকুল মুহ্রিকাহ্অধ্যায় ১১উপাধ্যায় ১পৃ. ২৩৪)

আবুল হুসাইন আল আজীরীর উদ্ধৃতি দিয়ে ইবনে হাজার বলেছেন : ইমাম মাহ্দী (আ.)-এর আবির্ভাব ও উত্থান সম্পর্কিত রাসূলুল্লাহ্ (সা.)-এর হাদীসসমূহ বিপুল সংখ্যক সনদসহ বর্ণিত হয়েছে এবং তা মুতাওয়াতির হওয়ার পর্যায়কেও ছাড়িয়ে গেছে। এসব হাদীসে মহানবী (সা.)-এর নিকট থেকে বর্ণিত হয়েছে যেমাহ্দী তাঁর (রাসূলুল্লাহ্‌) আহলে বাইতভুক্ত হবেনতিনি পৃথিবীকে ন্যায় ও সুবিচার দিয়ে পূর্ণ করে দেবেন এবং হযরত ঈসা মসীহ্ (আ.)ও ঐ একই সময় আগমন করবেন। মাহ্দী ফিলিস্তিনে দাজ্জালকে হত্যা করার ব্যাপারে ঈসা (আ.)-কে সাহায্য করবেন। তিনি এ উম্মতের নেতৃত্ব দেবেন এবং হযরত ঈসা (আ.) তাঁর পিছনে নামায পড়বেন।’ (আস সাওয়ায়িকুল মুহ্রিকাহ্অধ্যায় ১১উপাধ্যায় ১পৃ. ২৫৪)

ইবনে আলী আশ শাওকানী (ওফাত ১২৫০/১৮৩৪) আত তাওদীহ ফী তাওয়াতুরি মা জাআ ফীল মুনতাযার্ ওয়াদ দাজ্জাল ওয়াল মাসীহ্’ (প্রতীক্ষিত ইমাম মাহ্দীদাজ্জাল ও মসীহ্ সংক্রান্ত হাদীসসমূহ মুতাওয়াতির হওয়ার ব্যাপারে ব্যাখ্যা) নামক গ্রন্থে ইমাম মাহ্দী সম্পর্কে লিখেছেন : মাহ্দী সংক্রান্ত হাদীসসমূহ বহু নির্ভরযোগ্য সূত্রে বর্ণিত হয়েছে এবং এ কারণেই এসব হাদীস নিঃসন্দেহে নির্ভরযোগ্যকারণফিকাহ্শাস্ত্রে ঐ সব হাদীসের ক্ষেত্রেও মুতাওয়াতির হওয়ার বৈশিষ্ট্য প্রযোজ্য যেগুলো ইমাম মাহ্দী সংক্রান্ত হাদীসসমূহের সংখ্যার চেয়েও অল্প সংখ্যায় বর্ণিত হয়েছে। মহানবীর সাহাবীদের প্রচুর বাণী আছে যেগুলোতে স্পষ্টভাবে ও বিশদভাবে মাহ্দী (আ.) সংক্রান্ত আলোচনা বিদ্যমান। এসব বাণী মাহনবী (সা.)-এর নিকট থেকে বর্ণিত হাদীসসমূহের সমপর্যায়ভুক্ত। কারণইজতিহাদের মাধ্যমে এসব বাণী প্রতিষ্ঠিত করায় কোন সমস্যা নেই।’ লেখক আল ফাতহুর রাববানী’ নামক তাঁর অপর এক গ্রন্থেও একই অভিমত ব্যক্ত করেছেন। (এতদসংক্রান্ত বিষয়ে দেখুন মাওযূআতুল ইমাম আল মাহ্দী১ম খণ্ডপৃ. ৩৯১-৩৯২৪১৩-৪১৪ ও ৪৩৪ এবং তুহাফুল আহ্ওয়াযী৬ষ্ঠ খণ্ডপৃ. ৪৮৫)

আস সাবান তাঁর ইসআফুর রাগিবীন গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন : ইমাম মাহ্দীর আবির্ভাব সংক্রান্ত হাদীসসমূহ যে মহানবী (সা.) কর্তৃক বর্ণিত তা বোঝা যায়। তিনি (মাহ্দী) মহানবীর আহলে বাইতের সদস্য এবং তিনি পৃথিবীকে ন্যায় ও সুবিচার দিয়ে পূর্ণ করে দেবেন।

সুয়ূতী তাঁর সাবাইকুয যাহাব গ্রন্থে বলেছেন : আলেমগণ ঐকমত্য পোষণ করেন যেমাহ্দী শেষ যুগে আবির্ভূত হয়ে সমগ্র বিশ্বকে ন্যায় ও সুবিচার দিয়ে পূর্ণ করে দেবেন। তাঁর আবির্ভাব সংক্রান্ত হাদীস বিপুল সংখ্যক।

হাফেয আবুল হাসান সিজিস্তানী (ওফাত ৩৬৩ হি./ ৯৭৪ খ্রি.) বলেছেন : মহানবী (সা.)-এর নিকট থেকে ইমাম মাহ্দী (আ.) সংক্রান্ত হাদীসসমূহ বিপুল সংখ্যক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। মাহ্দী (আ.) মহানবী (সা.)-এর আহলে বাইতভুক্ত হবেন এবং সমগ্র বিশ্বকে ন্যায় ও সুবিচার দিয়ে পূর্ণ করে দেবেন।

পরবর্তী যেসব খ্যাতনামা আলেম এ বক্তব্য মেনে নিয়েছেন তাঁদের মধ্যে আছেন ইবনে হাজার আসকালানী (তাহ্যীবুত তাহ্যীব৯ম খণ্ডপৃ. ১৪৪ফাতহুল বারী৭ম খণ্ডপৃ. ৩০৫)কুরতুবী (আত তাযকিরাহ্পৃ. ৬১৭)সুয়ূতী (আল হাভী২য় খণ্ডপৃ. ১৬৫-১৬৬)মুত্তাকী হিন্দী (আল বুরহান ফী আলামাতি মাহ্দীয়ে আখিরিয যামানপৃ. ১৭৫-১৭৬)ইবনে হাজার হাইসামী (আস সাওয়ায়িকুল মুহ্রিকাহ্অধ্যায় ১১উপাধ্যায় ১পৃ. ২৪৯)যুরকানী (শারহুল মাওয়াহিবুল লাদুন্নীয়াহ্৫ম খণ্ডপৃ. ৩৪৮)সাখাভী (ফাতহুল মুগীস৩য় খণ্ডপৃ. ৪১)

দুজন বিখ্যাত শাফেয়ী আলেম আল্লামা গাঞ্জী তাঁর প্রসিদ্ধ গ্রন্থ আল বায়ান’-এ এবং শাবলানজী তাঁর গ্রন্থ নুরুল আবসার’-এ তিনিই সেই সত্তাযিনি তাঁর রাসূলকে হেদায়াত ও সত্য দীনসহ প্রেরণ করেছেন যাতে তিনি তা সকল ধর্মের ওপর বিজয়ী করে দেন’- কুরআন মাজীদের এ আয়াতের ব্যাপারে সাঈদ ইবনে জুবাইর থেকে বর্ণনা করেছেন যেমহানবী (সা.)-এর প্রতি মহান আল্লাহ্‌র এ প্রতিশ্রুতি আল মাহ্দীর মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে যিনি হযরত ফাতিমার বংশধর।

ইবনে তাইমীয়াহ্ (ওফাত ৭২৮ হি./১৩২৮ খ্রি.) তাঁর গ্রন্থ মিনহাজুস সুন্নাহ্য় (৪র্থ খণ্ডপৃ. ২১১-২১২) লিখেছেন যেইমাম মাহ্দী সংক্রান্ত হাদীসসমূহ অবশ্যই নির্ভরযোগ্য। আর তাঁর শিষ্য যাহাবী তাঁর শিক্ষকের এ গ্রন্থের সার সংক্ষেপে এ বিষয়টি স্বীকার করেছেন। (মুখতাসার মিনহাজুস সুন্নাহ্পৃ. ৫৩৩-৫৩৪)

রাবেতায়ে আলমে ইসলামী কর্তৃক ১১ অক্টোবর ১৯৭৬ তারিখে প্রদত্ত এক ফতোয়ায় বলা হয়েছে যে২০ জনেরও অধিক সাহাবী ইমাম মাহ্দী (আ.) সংক্রান্ত এসব হাদীস বর্ণনা করেছেন। এছাড়া যে হাদীসশাস্ত্রবিদগণ এসব হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং যাঁরা ইমাম মাহ্দীর ওপর বই-পুস্তক লিখেছেন তাঁদের একটি তালিকাও এ ফতোয়ার সাথে প্রদান করা হয়েছে। এ ফতোয়ায় বলা হয়েছে: হাদীসের হাফেজ এবং হাদীসশাস্ত্র বিশারদগণ প্রত্যয়ন করেছেন যেইমাম মাহ্দী সংক্রান্ত হাদীসসমূহের মধ্যে অনেক সহীহ এবং হাসান হাদীস বিদ্যমান। এর অধিকাংশ হাদীসই বিপুল সংখ্যক সূত্রে বর্ণিত (অর্থাৎ মুতাওয়াতির বা অকাট্য)। তাঁরা আরও প্রত্যয়ন করেছেন যেমাহ্দীর আগমনে বিশ্বাস স্থাপন ফরয এবং এটি হচ্ছে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আকীদার অন্যতম। সুন্নী মাজহাবের কেবল অজ্ঞ ব্যক্তিরা ও বিদআতপন্থীরা মাহ্দী সংক্রান্ত আকীদা অস্বীকার করেছেন। (এ ফতোয়ার পূর্ণ পাঠের জন্য আল বায়ান গ্রন্থের লেখক আল গাঞ্জী আশ শাফেয়ীর ভূমিকা দেখুনবৈরুত ১৩৯৯ হি./ ১৯৭৯ খ্রি.পৃ. ৭৬-৭৯)

আহলে সুন্নাতের বিশিষ্ট আলেম শেখ খাজা মুহাম্মদ পার্সা নাকশবন্দীর বক্তব্য : আবু মুহাম্মাদ হাসান আসকারী (আ.) আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত। তিনি ৬ রবিউল আওয়াল ২৬০ হি. শুক্রবার ইন্তেকাল করেন এবং তাঁকে তাঁর পিতার সমাধির কাছে সমাহিত করা হয়। তিনি তাঁর পিতার ইন্তেকালের পর ৬ বছর জীবিত ছিলেন এবং (মৃত্যুকালে) কেবল এক পুত্রসন্তান রেখে যান যিনি হচ্ছেন আবুল কাসেম মুহাম্মাদ (আ.)। তিনিই প্রতীক্ষিত ত্রাণকর্তা। প্রতীক্ষিত ত্রাণকর্তা ২৫৫ হিজরির ১৫ শাবান জন্মগ্রহণ করেন

लाइक कीजिए
0
फॉलो अस
नवीनतम
ইমাম রেজার (আ.)এর শাহাদাত-বার ...

হযরত ইমাম রেজার (আ.)এর শাহাদাত-বার্ষিকী ২০২০

ইমাম রেজার (আ.)এর রওজা মুবারাক

হযরত ইমাম রেজার (আ.)এর রওজা মুবারাক

করোনার ভয়ে ফ্রান্সের রাষ্ট্রীয ...

করোনার ভয়ে ফ্রান্সের ৯ শহরে ৪ সপ্তাহর কারফিউ জারী

বাংলাদেশে নারীর শ্লীলতাহানী ও ...

বাংলাদেশে ধর্ষণের মহোৎসব চলছে: মির্জা ফখরুল

ইমাম হুসাইন (আ.)এর মাথা কোথায়

ইমাম হুসাইন (আ.)এর মাথা কোথায় দাফন করা হয়?

আইআরজিসি সদস্যদের হত্যার মূল ক ...

ইরানে এক অভিযানে কয়েকটি সন্ত্রাসী আটক

যিয়ারত- এ আরবাইন আরবী ও বাংলা ...

বাংলায় যিয়ারত-এ আরবাঈন

ভারতের গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো প ...

ভারতের উপরে ইমরান খানের হামলা

ইরাকে মার্কিনদের লক্ষ্য করে হা ...

ইরাকে মার্কিন ঘাঁটিতে রকেট হামলা

ইরান মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে হত্য ...

ইরানের উপরে শক্তিশালী হামলা চালানো হবে: ট্রাম্প

মাস্ক না পরলে সারাদিন কবর খুঁড ...

মাস্ক না পরলেই পাঠিয় দেওয়া হচ্ছে কবরখানায়

ভেনিজুয়েলায় সম্পূর্ণ সতর্কতা

মার্কিন বিমান ভূপাতিত করল ভেনিজুয়েলা

ট্রাম্পকে সাদ্দামের মতো কবরস্থ ...

ইরানের উপর ট্রাম্পের হামলা?

ভারতের পাকিস্তানিদের মৃত্যুর ব ...

ভারতে ১১ পাকিস্তানির রহস্যজনক মৃত্যু