×
×
×

লাইলাতুল কদর বা শবে কদর

যে রাতে কোরআন নাজিল হয়, সে রাতের নাম লাইলাতুল কদর বা শবে কদর। পবিত্র রমজান মাসের শেষ দশকের কোনও এক বিজোড় রাতে শবে কদরের অবস্থান। এই রাতে ইবাদত বন্দেগি'র বহুগুণ পুরস্কার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকে। এ

রমজান এমন একটি মাসযে মাসে মুসলমানরা মহান আল্লাহর আতিথ্য গ্রহণ করার সুযোগ পায়। রহমতবরকত ও মাগফেরাতের মাস রমজান খোদাভীরু মানুষকে আল্লাহর আরো নিকটে পৌঁছে দেয়ার সুযোগ এনে দেয়। পবিত্র এ মাসে মহাগ্রন্থ আল কোরআন অবতীর্ন হয়। যে রাতে কোরআন নাজিল হয়সে রাতের নাম লাইলাতুল কদর বা শবে কদর। পবিত্র রমজান মাসের শেষ দশকের কোন এক বিজোড় রাতে শবে কদরের অবস্থান। এই রাতে ইবাদত বন্দেগি'র বহুগুণ পুরস্কার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকে। এ কারণে বিশ্বের মুসলিম জাতি শবে কদরে কোরআন তেলাওয়াতসহ নানা ধরনের নফল ইবাদত ও আমলে মগ্ন হয়। এ রাতে মসজিদগুলো মুসল্লিদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে। নানা ধরনের ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালিত হয় কিন্তু এ বছর করোনা ভাইরাসের কারণে কিছু কিছু দেশে বাসায় আমল করা হচ্ছে এবং মসজিদগুলো খালি হয়ে আছে। সকল মানবতার কল্যাণ ও করোনা ভাইরাস থেকে বিশ্বকে মুক্ত হওয়ার জন্যে মুসলিম জাতি শবে কদরে দুয়া করবেন।  

নাজাতের মহা সুসংবাদময় রমজান মাসের শেষ দশকের বেজোড় রাত্রিগুলোতে আমাদের জন্যে রয়েছে একটি মহাসুসংবাদ। সেটি হলো ইমাম সাদেক (আ.) এর ভাষায় রমযানের প্রাণ শবে কদর এই দশকেই রয়েছে। যাঁরা রোযাদার তাঁরা নিশ্চয়ই এই রাতটির অপেক্ষায় থাকেন। সেজন্যে রোযাদারদের উচিত যে কটা দিন বাকি আছে যথাসম্ভব রাত্রি জেগে ইবাদাত বন্দেগি করা। কারণ শবেকদরের ফজিলত আমাদের মানবীয় চিন্তায় যতোটা আসা সম্ভব তার চেয়েও বেশি। আল্লাহ আমাদেরকে শবেক্বদর পাওয়ার এবং এই রাতে যতো বেশি সম্ভব ইবাদাত করার তৌফিক দান করুক।

ইসলামের সমৃদ্ধ সংস্কৃতিতে প্রতিটি জিনিসকেই ঐশী মানদণ্ডে তুলনা বা মূল্যায়ন করা হয়। এই মানদণ্ডের ভিত্তিতেই পবিত্র আল কোরআন বলেছে লাইলাতুল কাদরি খাইরুম মিন আলফি শাহর 

অর্থাৎ কদরের রাত্রি এক হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। সহিফায়ে সাজ্জাদিয়ার চুয়াল্লিশ নম্বর দোয়ায় আল-কোরআনের এই আয়াতের ভিত্তিতেই বলা হয়েছে-রমযানের রাতগুলোর মধ্যকার একটি রাতে ইবাদাত-বন্দেগি করা অন্য সময়কার হাজার মাসের রাতের ইবাদাতের চেয়েও উত্তম। কারণ ঐ রাতে দুনিয়াবী এবং দ্বীনী ফায়দা যেমন অপরিসীম তেমনি এতে রয়েছে ব্যাপক বরকত ও কল্যাণ। ঐ রাতটিকে বলা হয় শবেকদর। বিভিন্ন বর্ণনায় এসেছেপরিপূর্ণ কোরআন একবারে এই রাতেই নবীজীর ওপর নাযিল হয়েছেযদিও শাব্দিকরূপে বা আয়াতরূপে তা নাযিল হয়েছিল নবীজীর নবুয়্যতি জীবনের কর্মময় ২৩টি বছরের বিভিন্ন সময়ে। মূলত এই কোরআনের মাহাত্ম্যের কারণেই শবেকদরের এতো মূল্যায়নএতো বেশি মর্যাদা।

রাসূলে খোদা (সা.) বলেছেনযারা রমজান মাসে ঈমান এবং আক্বীদা সহকারে প্রতিদান পাবার আশায় রোযা রাখবেআল্লাহ তায়ালা তার অতীত গুনাহ-খাতা মাফ করে দেবেন এবং যারা শবেক্বদরে ঈমান এবং আক্বীদা সহকারে প্রতিদান পাবার আশায় নামায পড়বেআল্লাহ তায়ালা তাদেরও পেছনের সকল গুনাহ মাফ করে দেবেন।

রাসূল (সা) আরো বলেছেনশবেক্বদরে যারা রাতভর জেগে থেকে ইবাদাত করে পরবর্তী বছর পর্যন্ত তাদের শাস্তি মওকুফ হয়ে যায়। তাই রাসূল (সা.) এই রাতে জাগ্রত থাকার ব্যাপারে অবহেলা প্রদর্শন করতে বিশেষ করে একুশতমতেইশতম,পচিশতম ও সাতাশতম রমযানের রাতে ইবাদাত করার ব্যাপারে অমনোযোগী হতে নিষেধ করেছেন। তাই এই রাতগুলোকে জীবনের শ্রেষ্ঠ রাত মনে করে সর্বপ্রকার অলসতা থেকে নিজেকে দূরে রেখে ইবাদাত বন্দেগিতে আত্মনিবেদন করবেন এটাই প্রত্যাশা। মনে রাখবেন এ কটা রাত খাওয়া-দাওয়া যতোটা পরিমিত এবং ইসলাম নির্দেশিতভাবে করার সুযোগ হবে রাত জেগে ইবাদাত করার ব্যাপারে স্বাস্থ্য ততো বেশি অনুকূল থাকবে-তাতে কোনো সন্দেহ নেই। খাবার দাবার যতো বেশি করবেন শরীর ততোটাই বিশ্রাম করতে চাইবে।

কদরের মহিমান্বিত রাতটি হচ্ছে অন্তরের আয়না ধুয়ে মুছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে ঝকঝকে করে তোলার এক স্বর্ণালী সুযোগ। মন্দের স্থানগুলোকে পুণ্য ও কল্যাণময় কাজ দিয়ে পূর্ণ করাবিচ্ছিন্নতা আর মতানৈক্যের স্থানে ঐক্য ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করা,অন্যায়-অত্যাচারের স্থানগুলোকে ন্যায় ও দয়ার সাহায্যে ভরপুর করে তোলা,অবাধ্য সন্তানেরা পিতামাতার প্রতি শ্রদ্ধা-সম্মান প্রদর্শন এবং তাদের ব্যাপারে দায়িত্বশীল ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া,যোগাযোগহীন আত্মীয়-স্বজনদের সাথে সুসম্পর্ক আর যোগাযোগ গড়ে তোলার সুবর্ণ সময় হলো শবেকদর। যারা কদরের রাতে জাগ্রত থেকে ইবাদাত করে,আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাদের নাম পূণ্যবানদের তালিকাভুক্ত করেন এবং জাহান্নামের আগুণকে তাদের জন্যে হারাম করে দেন। এরচেয়ে আর সৌভাগ্যের কথা আমাদের জন্যে আর কী থাকতে পারে। পূণ্যবানদের তালিকাভুক্ত হওয়া মানে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা। আর নৈকট্য লাভ করার মধ্যে রয়েছে একজন মানুষের জীবনের পরিপূর্ণ সার্থকতা।

সেজন্যে কদরের রাতে বেশি বেশি ইবাদাত করতে হবে। সেই সাথে বেশি বেশি দোয়া করতে হবে। যেসব দোয়া পড়বেন চেষ্টা করবেন সেগুলোর অর্থ বুঝে নেওয়ারতাহলে দোয়ার প্রতি মনোযোগ যেমন আকৃষ্ট হবে তেমনি দোয়ার ব্যাপারে আরো বেশি আন্তরিকতা সৃষ্টি হবে।

लाइक कीजिए
0
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইসলাম অবমাননাকর বক্তব্য থেকে পিছু হটেছেনিজের বক্তব্য থেকে সরে গেল ইসলাম বিদ্বেষী ম্যাকরন কিন্তু ক্ষমা চাইনি
ম্যাকরনের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের ক্ষোভম্যাকরনের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের ক্ষোভ
ইসলামের দৃষ্টিতে তাক্বীয়াহইসলামের দৃষ্টিতে তাক্বীয়াহ করা কি জায়েয?
फॉलो अस
नवीनतम
আমেরিকার প্রতি হুঁশিয়ারি

উত্তর কোরিয়ার ভয়ে কেঁপে উঠল ওয়াশিংটন

ইরান নিয়ে আমেরিকাকে ইইউএর পরাম ...

ইরান নিয়ে আমেরিকাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নএর পরামর্শ

আলী (আঃ)এর শাহাদাতবার্ষিকী

হযরত ইমাম আলী (আঃ)এর শাহাদাতবার্ষিকী

যিয়ারত-এ আশুরা

অর্থসহ যিয়ারত-এ আশুরা

হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

পশ্চিমবঙ্গে এগিয়ে তৃণমূল

শবে কদরের আমল

শবে কদরের আমলসমূহ

আমেরিকাকে চীনের সতর্ক

আমেরিকাকে আবারও সতর্ক করেছে চীন

মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে হামলা

ইরাকে মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা

ইসরাইলি ড্রোন ভূপাতিত

গাজায় ইসরাইলি ড্রোন ভূপাতিত

আমেরিকাকে তুরস্কের হুঁশিয়ারি ...

এবার আমেরিকাকে তুরস্কের হুঁশিয়ারি

রুশ কূটনীতিকদের বহিষ্কারের জবা ...

৩টি পশ্চিমা দেশকে রাশিয়ার চাপট আঘাত

পুতিনকে সাক্ষাতের প্রস্তাব

রাশিয়ার কাছে নত হলেন বাইডেন